<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>অ্যান্টার্কটিকা Archives - ঘুরুঞ্চি ম্যাগাজিন</title>
	<atom:link href="https://www.ghurunchi.com/category/antarctica/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.ghurunchi.com/category/antarctica/</link>
	<description>বাংলা ভাষায় পূর্ণাঙ্গ ট্রাভেল ম্যাগাজিন</description>
	<lastBuildDate>Sun, 08 Jan 2023 12:29:33 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-AU</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.2.6</generator>

<image>
	<url>https://www.ghurunchi.com/wp-content/uploads/2022/11/ghurunchi-logo3.jpg</url>
	<title>অ্যান্টার্কটিকা Archives - ঘুরুঞ্চি ম্যাগাজিন</title>
	<link>https://www.ghurunchi.com/category/antarctica/</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>অ্যান্টার্কটিকা &#8211; এ এক অন্য জগৎ</title>
		<link>https://www.ghurunchi.com/%e0%a6%85%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%8f-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%8d/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[রেজাউল বাহার, যুক্তরাষ্ট্র  ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 07 Jan 2023 03:06:50 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অ্যান্টার্কটিকা]]></category>
		<category><![CDATA[ঘুরুঞ্চি ওয়েবসাইট]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.ghurunchi.com/?p=4594</guid>

					<description><![CDATA[<p>অবশেষে শারমীন  আর আমি পৃথিবীর শেষ মহাদেশে পা ফেললাম। আমরা একসাথে আছি ১৭ বছর, পথ চলার শুরুর দিকেই এক ভয়ঙ্কর ড্রাগ আমাদের মধ্যে ঢুকে গেলো। দুনিয়া দেখতে হবে, চলে যেতে হবে যতদূর যাওয়া যায়।  আমরা দুজনেই বাংলাদেশে জন্ম এবং বেড়ে উঠা।  জীবনের তাগিদ চলে আসা আমেরিকাতে।  আমি আসলাম ১৯৯৯, শারমীন ২০০৫। আর অন্য দশজন প্রবাসীর [&#8230;]</p>
<p>The post <a rel="nofollow" href="https://www.ghurunchi.com/%e0%a6%85%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%8f-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%8d/">অ্যান্টার্কটিকা &#8211; এ এক অন্য জগৎ</a> appeared first on <a rel="nofollow" href="https://www.ghurunchi.com">ঘুরুঞ্চি ম্যাগাজিন</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>অবশেষে শারমীন  আর আমি পৃথিবীর শেষ মহাদেশে পা ফেললাম। আমরা একসাথে আছি ১৭ বছর, পথ চলার শুরুর দিকেই এক ভয়ঙ্কর ড্রাগ আমাদের মধ্যে ঢুকে গেলো। দুনিয়া দেখতে হবে, চলে যেতে হবে যতদূর যাওয়া যায়।  আমরা দুজনেই বাংলাদেশে জন্ম এবং বেড়ে উঠা।  জীবনের তাগিদ চলে আসা আমেরিকাতে।  আমি আসলাম ১৯৯৯, শারমীন ২০০৫। আর অন্য দশজন প্রবাসীর মতো শুরুর দিকটা আমাদেরও ছিলো টানা হেচড়ায়  পথ চলা।  দেখতে দেখতে কিছু বছর পার হলো, তারপর একটু সাধ্য সামর্থ, শুরু হলো ঘর ছেড়ে বের হওয়া।</p>
<p>২০০৮ থেকে শুরু করে একে  একে বহুদেশ, ৬ টি মহাদেশ দেখা। ২০১৬ এর দিকের ঘটনা, এক সন্ধ্যায় টিভিতে অ্যান্টার্কটিকা নিয়ে কোনো এক ডকুমেন্টরি দেখতে দেখতে শারমীন  বললো- আমি অ্যান্টার্কটিকা যাবো। আমি মনে মনে ভাবলাম, মহিলা বলে কী এসব।  একটু খোঁজ নিলাম, যাওয়া যায়, সম্যসা একটাই, অনেক টাকার মামলা। তখনও  কিন্তু আমরা বছরে অনেক ঘোরাঘুরি করি, টাকা জমিয়ে তারপর ঘোরাঘুরি। এই ঘোরাগুরিও বন্ধ রাখা যাবে না।  শারমীন বললো আমি আলাদা করে টাকা জমাবো। তারপর প্রায় বছর তিনেক পর হঠাৎ সে বললো অ্যান্টার্কটিকা যাবার জন্য বেশ কিছু টাকা জমে গেছে। হিসাব করে যা বুঝলাম, অর্থেক জমেছে। কী  আছে দুনিয়ায় &#8211; এই কথা মাথায় রেখে বাকী টাকা ক্রেডিট কার্ড থেকে দিয়ে দিলাম। হয়তো একবার, যাবোই যখন, যাবার মতো করে যাবো। সিলভার-সী এক্সপেডিশন ত্রুজ লাইনের সাথে এক বছর তিন মাস অগ্রিমে বুকিং শেষ করলাম।</p>
<p>এর পর শুরু হলো অপেক্ষার পালা, অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণের সময় ঠিক হলো ২০২০ এর  নভেম্বর। বছর শুরু বিশ্বে কবিড মহামারী নিয়ে, একে একে বন্ধ হওয়া শুরু হলো চারিদিকে।</p>
<p>ঢাকাতে তখন মা অসুস্থ, আমার শেষ আশ্রয়, আমার মা।  মায়ের অসুখটা ছিলো চলে যাবার অসুখ, মা থাকবে না, এই সত্য নিয়ে প্রতিটা দিন মুহূর্ত পথ চলা। অ্যান্টার্কটিকা ট্রিপ আপাতত বাদ দিলাম, ত্রুজ এমনিতেও বাতিল  হতো কবিড  এর কারনে, পরে তাই হলো।  অনেকগুলো টাকা জমা দেয়া, তুলে ফেলবো কিনা ভাবতে শারমীন বললো থাক, পরের বছরের জন্য প্ল্যান করো।  টাকা তুলে ফেললে খরচ  হয়ে যাবে, আর যাওয়া হবে না এন্টার্কটিকা।</p>
<p>অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণ পিছিয়ে দিলাম ২০২১ এর ডিসেম্বরে। এর মধ্যে দেশে গেলাম দুবার, ছিলাম বেশ কিছু সময় মায়ের সাথে। মা চলে গেলো ২১-শের এপ্রিলে। মা না থাকার কষ্টটা কেমন সেটা থাক আপাততঃ আমার সাথে। জীবন রহস্যময়, জীবন মানেই থেমে না যাওয়া। আমি ভালো থাকবো, মা হয়তো কোথাও থেকে দেখবে, এই যা।</p>
<p>অনেক চড়াই-উতরাই পারি দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু ২০২১ এর ১৯শে ডিসেম্বর। চারিদিকে এতো নিয়ম-কানুন, কবিড টেস্ট, ইন্সুরেন্স, হেলথ ডিক্লারেশন, চিলিয়ান গভর্নমেন্টের অনুমুতি -লম্বা লিস্টের এই কিছু অংশ।  দুটো এয়ারপোর্ট পার হয়ে দক্ষিণ আমেরিকার চিলের শেষ প্রান্তে ত্রুজশিপের পোর্ট এ পৌঁছানোর পরেও বিশ্বাস হচ্ছে না যেতে  পারবো, কী পারবো না।  ডিসেম্বর ২১-শের সন্ধ্যা ৬ টার দিকে সব নীতিমালা শেষ করে যখন সিলভার-সীর ডাইনিং এ বসে আছি, দেখলাম আমাদের জাহাজ পোর্ট ছেড়ে বেরুচ্ছে। এই প্রথম বুঝলাম আমরা যাচ্ছি পৃথিবীর শেষ প্রান্তে ।</p>
<p>এর পরের ১৬ দিনের গল্প না বলারই মতো।  কোনো শব্দ, অনুভূতি সেই ভ্রমণকে কারো কাছে নিয়ে যেতে পারবে না।  প্রথম দু-রাত পারি দিলাম ড্রেক প্যাসেজ, উত্তাল সমুদ্র।  উত্তাল বলতে ভয়ংকর, ড্রেক সম্পর্কে জানতে গুগল বা ইউটুব করে কিছুটা ধারনা পাওয়া যেতে পারে। ড্রেক প্যাসেজ পার হওয়াটা অ্যান্টার্কটিকারই  অংশ।  সমুদ্রের সেই রাত মনে থাকবে বহুদিন, শারমীন অসুস্থ হয়ে পড়লো, সী-সিকনেস।</p>
<p>দু-রাত পারি দিয়ে পরের এক সকাল। ঘুম থেকে জেগে পর্দা সরিয়ে রুমের পাশে বেলকনিতে যেয়ে শব্দহীন কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলাম। আমার সামনে এক অপরিচিত জগৎ, অনেকটা -আমি কী  জেগে আছি না ঘুমে, এই ভাবনা।</p>
<p>এর পর প্রায় সপ্তাখানেক, একে একে বেশ কিছু আইল্যান্ড আর অ্যান্টার্কটিকা মূল ভূখণ্ডে পা রাখলাম। অ্যান্টার্কটিকার ভ্রমণ গল্প, নিয়ম-কানুন, মহাদেশের প্রীতিচ্ছবি &#8211; এসব নিয়ে গল্প জুড়ে দিলে পাঠকের পথ চলা থেমে  যাবে, হয়তো অবাক-বিস্ময়ে ভাববে এ এক কল্প-কাহিনী। পৃথিবীর শেষ প্রান্তের এই অংশটুকু কল্পনার মতোই, এজগৎ আমাদের নয়, এ জগৎ পেংগুইন, তিমি, সীল আর আলবাট্রস পাখিদের। সাড়া মহাদেশ জুড়ে ৭০০০ ফুট বরফের স্তর, তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নিচে, মূল ভূখণ্ডে বছরের অর্ধেক সময়ই থাকে মাইনাস (-) ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গলে গেলে সারা পৃথীবির সমুদ্র ২০০ ফুট উচ্চতায় উঠবে।</p>
<p>কিন্তু আমাদের কাছে এগুলো শুধুই কিছু সংখ্যা মাত্র, এটা বোঝার মতো অবস্থা আমাদের মস্তিককের বাইরে। আর সেটাই বোধহয় ভালো, অ্যান্টার্কটিকা থাকুক বাইরের এক জগৎ হয়ে।  মানুষতো পৃথিবীর সব কিছুই দখল করে নিলো, কোথাও কিছু থাকুক অন্য প্রাণীকুলের জন্য, এন্টার্কটিকা থাকুক সবার ধরা ছোয়ার বাইরে।</p>
<p>The post <a rel="nofollow" href="https://www.ghurunchi.com/%e0%a6%85%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%8f-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%8d/">অ্যান্টার্কটিকা &#8211; এ এক অন্য জগৎ</a> appeared first on <a rel="nofollow" href="https://www.ghurunchi.com">ঘুরুঞ্চি ম্যাগাজিন</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণের গল্প</title>
		<link>https://www.ghurunchi.com/%e0%a6%85%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%a3%e0%a7%87%e0%a6%b0/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[রেজাউল বাহার, যুক্তরাষ্ট্র ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 07 Jan 2023 03:03:49 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অ্যান্টার্কটিকা]]></category>
		<category><![CDATA[ঘুরুঞ্চি ওয়েবসাইট]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.ghurunchi.com/?p=4590</guid>

					<description><![CDATA[<p>অনেকেই যখন গল্প শুনতে চায়, তারা খোজে জীবনের কষ্টের অংশ, বাধা বিপত্তির অংশ। কীভাবে কী হলো, কতটা বাধা বিপত্তির মধ্যে দিয়ে ঘটনা এগুলো ইত্যাদি। জীবন মানেই তো চড়াই-উতরাই, আনন্দ বেদনা। দূর থেকে হয়তো ওপাশটা অনেক সুন্দর মনে হয়, কিন্তু প্রকাশ্যে বা চেপে থাকা সংগ্রাম আমাদের সবার মাঝেই আছে। বহু বছর  বেঁচে থেকে মাঝে কিছুটা ভালো [&#8230;]</p>
<p>The post <a rel="nofollow" href="https://www.ghurunchi.com/%e0%a6%85%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%a3%e0%a7%87%e0%a6%b0/">অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণের গল্প</a> appeared first on <a rel="nofollow" href="https://www.ghurunchi.com">ঘুরুঞ্চি ম্যাগাজিন</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>অনেকেই যখন গল্প শুনতে চায়, তারা খোজে জীবনের কষ্টের অংশ, বাধা বিপত্তির অংশ। কীভাবে কী হলো, কতটা বাধা বিপত্তির মধ্যে দিয়ে ঘটনা এগুলো ইত্যাদি। জীবন মানেই তো চড়াই-উতরাই, আনন্দ বেদনা। দূর থেকে হয়তো ওপাশটা অনেক সুন্দর মনে হয়, কিন্তু প্রকাশ্যে বা চেপে থাকা সংগ্রাম আমাদের সবার মাঝেই আছে।</p>
<p>বহু বছর  বেঁচে থেকে মাঝে কিছুটা ভালো সময়য়ের নামই জীবন, বেঁচে থাকার আনন্দ অনেক না পাওয়ার মাঝে কিছু অর্জন।</p>
<p>আমাদের ভ্রমণের ব্যাপারটাও তার ব্যতিক্রম নয়। আমরা সবাই কিছু না কিছুর পিছু ছুটছি। কিছু পিছুটান, কিছু আকাঙ্খা নিয়েই দেখতে দেখতে জীবন শেষ।</p>
<p>জীবনে ছোট বড় বিষয় গুলোকে আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে সাজাতে থাকি। কারো ব্যবসা, কারো সম্পত্তি, কারো ছেলে-মেয়ে মাউস করা, কারো হয়তো ঘাপটি মেরে ঘরে বসে থাকা, যার যা ভালো লাগে তাই চলছে চারপাশে। বছর দশক আগেও ভাবিনি আমরা অজানা দেখার নেশায় পরে যাবো। শুরুরটা ছিল কোথাও বেড়াতে যাওয়া, দুই তিন চার পাড়ি  দিতেই রক্তে নেশা চেপে ধরলো। এখন দুনিয়া দেখতে হবে, এই আমাদের স্বর্গ। চোখ বুজার পরে অন্য কোনো স্বর্গ অপেক্ষায় আছে কিনা জানা নেই, থাকলেও তা হবে অন্য কোনো জগৎ, আমি হবো অন্য কেউ। এই ক্ষনিকের স্বর্গে চোখ বুজার আগে আমাদের যেতে হবে বহুদূর। প্রয়জন অর্থ, স্বাস্থ্য আর সময়। এই তিনের একটা ঘাটতি থাকলেও হবে না স্বর্গে পদার্পন। ছোটবেলায় অনেকেই শিখিয়েছে টাকা পয়সায় সুখ কেনা যায় না, যেটা শিখানো হয়নি তা হলো &#8211; টাকা পয়সা ছাড়া সুখ হবে নারে পাগল। কাজেই অর্থ লাগবে, বংশ পড়াম্বনায় তা থাকলে তো বেশ ভালই। আমরা সেই পক্ষের নই, কাজেই আমাদের কাজ করতে হয়। শুরুতে কতটা পড়াশুনা আর পরিশ্রম সে নিয়ে আলাপ এখন থাকে। শুধু জেনে রাখা ভালো সেই গল্প শুনলে অনেকেই হয়তো বলবে, থাক আপাতত ভ্রমণের দরকার নাই, হুদাহুদি এতো কষ্ট কে করবে।এর চেয়ে ঈশ্বরকে স্মরণ করি, ওপারে অনন্ত কাল, ঈশ্বর হাত ধরে ঘুরিয়ে  ঘুরিয়ে দেখাবে সব। এখন ভালো ঘাপটি মেরে ঘরে বসে থাকি। কিন্তু একটু কষ্ট করে নিজেকে যদি দাড় করানো যায়, তার পর যদি শুরু হয় অজানার পথে পা বাড়ানো, মনে রেখো সে এক স্বর্গীয় তৃপ্তি।</p>
<p>আমরা দুজন মানুষ, এক সাথে আছি ১৭ বছর। প্রথম ৫ বছর বাদ দেই, সেটা ছিলো সোজা হয়ে জীবনে দাড়ানোর সময়, জীবন সংগ্রাম। এর পর আসি গত ১২ বছরের সারসংক্ষেপে, আমাদের দেখা হয়েছে ৭ টি মহাদেশ, পৃথিবীর ৮৩ টি দেশ। ৭ মহাদেশের শেষটি অবশ্যই এন্টার্টিকা। সেখানে যাবার পরিকল্পনাও গত ৫ বছরের।বড় বাধা -টাকা। ইচ্ছা আর সামর্থের যোগে জোগাড় হয়ে গেলো ৩০ লক্ষ টাকা। জমা দিয়ে শেষ মহাদেশ যাবার পরিকল্পনা শেষ, এখন অপেক্ষার পালা। এন্টার্টিকা অনেক ভাবেই যাওয়া যায়, সবচেয়ে ভালো আর্জেন্টিনা বা চিলি থেকে ক্রুজে করে, ড্রেক প্যাসেজ পাড়ি দিয়ে।</p>
<p>যাবার তখন এক সপ্তাহ বাকী। মাস খানেক আগেই চিলিয়ান গভর্নমেন্টের অনুমুতি পেয়েছি। অনলাইনে কাগজ পত্র জমা দেয়া, কবিড ভ্যাকসিনেশন, ট্রিপ প্ল্যান ইত্যদি। মেডিকেল হেলথ ইস্যুরেন্সও কিনতে হলো কবিড এর জন্য। পুরো সপ্তাহটা সাবধানে থাকলাম, কোনোভাবেই কবিড পসিটিভ হওয়া যাবে না। যাবার আগে টেস্ট করলাম দুবার, ওমা রেজাল্ট আসে না, এয়ারপোর্টে যাবার মাত্র ৩ ঘন্টা বাকী। যাই হোক, এদিক ওদিক ফোন করে রেজাল্ট পাওয়া গেলো। আবারও অনলাইনে ঢুকে চিলিয়ান গভর্নমেন্ট কে হেলথ ডিক্লারেশন দিলাম। ২০ বছর ধরে গাড়ি চালাই, সাবধানেই চালাই। এবার কানেক্টিকাট (আমাদের বাসা) থেকে নিউ ইয়র্ক এয়ারপোর্ট এ গেলাম অতিরিক্ত সাবধানে গাড়ি চালিয়ে। কোনো রকম কোনো দুর্ঘটনায় পড়া যাবে না। নিজের গাড়ি নিয়ে এয়ারপোর্টে রেখে গেলাম, ট্যাক্সি বা উবার নেয়া যেত, কিন্তু না। সাবধানে থাকতে হবে, এন্টার্টিকার জাহাজে উঠার আগে পর্যন্ত কোনো ভাবেই কবিড পসিটিভ করা যাবে না। সামনে আরও অনেক টেস্ট বাকী। চিলিতে নামার পর এয়ারপোর্ট এ টেস্ট, হোটেলে গিয়ে জাহাজে উঠার আগে আবার টেস্ট।এ এক ভয়ংকর মানসিক চাপ, যদি ঝামেলা হয়, উঠতে পারবো না, ৫ বছরের স্বপ্নের আপাতত সমাপ্তি হবে করেনটিনের মাধ্যমে, চিন্তা করতেই মনে হয় শীত সিট ভাব, গা গরম গরম লাগছে।</p>
<p>আমাদের যাত্রা শুরু হলো নিউ ইয়র্কের জে. এফ. কে. এয়ারপোর্ট থেকে। এখন থেকে চিলির সান্টিয়াগো। সেখানে নামার পর আর একদফা নিয়ম কানুন আর কোবিদ টেস্ট। আমাদের ক্রুজ লাইনের রিপ্রেসেন্টেটিভ ছিলো এয়ারপোর্টে, বাসে  করে নিয়ে গেলো  ম্যান্ডারিন হোটেলে। ফাইভ-ষ্টার লাক্সারী হোটেল, সবই ঠিক আছে শুরু রুমে থাকতে হবে এয়ারপোর্টে করা কবিড-এর রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত। প্রিলিমিনারী একটা ইমেইল আসলো, সব স্প্যানিশে লেখা। কোথায় যেন দেখলাম একটা শব্দ &#8220;নেগেভিতো&#8221; টাইপ। ভাবলাম ঝামেলা শেষ, রুম ছেড়ে বের হলাম হোটেলে ডিনার এদিক ওদিক হাটাহাটি। পরে জানলাম রেজাল্ট এখনো আসে নি, যাই হোক রেজাল্ট আসলো মাঝ রাতে। এই হোটেলেই ক্রুজের সব গেস্ট জড়ো হবে, এখানেই রাত থেকে সকালে একটা চার্টার ফ্লাইটে আমাদের নিয়ে যাওয়া হবে চিলির দক্ষিণে, পুন্টা এরিনা শহরে। সেখানেই আমরা জাহাজে উঠবো।</p>
<p>অনেক ভোরে ঘুম থেকে উঠলাম। আজ আমাদের সেই দিন, আজ আমরা রওনা দিবো এন্টার্টিকার দিকে। সকালে নাস্তা শেষ করার পরেই জানানো হলো কিছু দেরী হবে, কোনো একটা ঝামেলা চলছে। ক্রুজের সব গেস্টরা এদিক ওদিক বসে আছে, হাটাহাটি করছে, গল্প করছে, অপেক্ষায় আছে সবাই। চারিদিকে হাটাহাটি করা লোকজন দেখে বোঝা যায় করা এই ট্রিপের যাত্রী। শারমীন এন্ড আমি বসে আছি হোটেলের সুমিং পুলের পাশে। এক ভদ্রলোক এসে পরিচয় দিলাম, স্ত্রী আর দুই ছেলে নিয়ে তারাও যাচ্ছে। ভদ্রলোকের নাম রেট, আমার আবার উচ্চারণে ঝামেলা। আমার মুখ থেকে চলে আসে  RAT (ইঁদুর), শারমীন কয়েকবার সাবধান করে দেবার পর উচ্চারণ একটু ঠিক করলাম। এর পর সামনের ১৬ দিন আমি তাকে &#8220;রেট&#8221; বলেই ডেকেছি। যাই হোক রেট জানালো আমাদের জাহাজ পোর্টে ভিড়তে পারছে না, প্রচন্ড ঝড়ো-হাওয়া। আমরা এর আগেও একবার পুন্টা-এরিনাতে গিয়েছি। সেখানে বাতাস কি জিনিস তা আমাদের জানা। প্রায় ঘন্টা তিনেক অপেক্ষার পর আমাদের বাসে করে একটা প্রাইভেট টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া হলো। লাল গালিচা বিছানো, কালো-সাদা পোশাকের লোকজন অপেক্ষায় আছে কখন আমাদের গলা ভিজাবে, শেম্পেন আর সাদা-লাল ওয়াইন, সাথে স্নাক্স আর চকলেটে। জীবনে অল্প কয়েকবার নিজেকে ভি আই পি টাইপ মনে হয়েছে, যতদূর মনে পরে বিয়ের সময় একবার। আর বোধয় এই।</p>
<p>চার্টার প্লেনে করে ঘন্টা তিনেক পরে পৌছে গেলাম পুন্টা এরিনাতে, সেখান থেকে আবার বাসে করে পোর্টে। সেখানে ইমিগ্রেশন শেষ করার পর, হাতে ধরিয়ে দিলো রুমের ডিজিটাল চাবি। আমাদের নাম লেখা ওখানে, অরে অরে তাড়াতাড়ি ছবি তুলে নেই। চাবির ছবি তোলা শেষ, শারমীন তার হার ব্যাগ সাথে নিয়ে সিড়ি  দিয়ে উঠে যাচ্ছে শিপে, আমি পেছনে, জাহাজে উঠার একটা ছবি থাকা দরকার, তুললাম।</p>
<p>জাহাজে ঢুকে কিছু ফর্মালিটিজ তো আছেই, পাসপোর্ট জমা দেয়া, কিছু কাগজ পড়তে সাইন করা, ওদিকে আবারো সাদা-কালো পোশাকে গ্লাস নিয়ে দাড়িয়ে আছে, স্যার-মেডামদের গলা ভিজানো দরকার। কী আছে ভিজাইতে থাকি, চলুক। ওদিকে দুপুর পার হয়ে গেছে, পেটে ক্ষুধা। রুমে দুঃখে দেখি ওয়াও, কি সুন্দুর রুম, কতো বড়, সাথে লাগোয়া বারান্দা। ওয়াও তা একনিতেই বললাম, এর সব কিছুই আমি আগে থেকে জানি, জাহাজের খুঁটিনাটি ডিটেলস আমার আগেই জানা। তারপরো প্রথম সশরীরে এখানে। ওমা! ওদিকে আবার টেবিলে বরফ বাটি ভর্তি ছোট বালতির (বালতি বলা ঠিক হচ্ছে কিনা জানি না ) মধ্যে শেম্পেন। কতবার জীবনে কি আছে বলবো, যাই হোক আবার বললাম। পেটে ক্ষুধা থাকুক আর যাই থাকুক স্টেপ বাই স্টেপ সেলিব্রেট করে নেই। বোতল খুললাম, রুমের সেলেব্রেশন এখন শেষ, শিপে রেস্ট্রুরেন্ট ৪ টা, সবই ফাইন &#8211; ডাইনিং, অ্যামেজিং ফুড, এইগুলা আগে থেকেই জানা। শারমীন কিছু কিছু রেসেরভেশন আগেই দিয়ে রেখেছে, কিন্তু এখন কোনো একটাই গেলেই হবে। দুপুর পার হয়ে এখন প্রায় সন্ধ্যা, আমার &#8220;লা তেরেজা&#8221; রেস্ট্রুরেন্ট এ চলে গেলাম। সে কী আপ্যায়ন, বিয়ে বাড়ীতে বর ঢুকছে এখন খেতে বসবে, অথবা গুরুর্ত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রীসাহেব সরকারী সফরে ডিনারে আসছে। যাই হোক, যে যেভাবে নেয়। আমি ভাই বন্ধু মানুষ, চারপাশে যা আছে সবাই আমার দোস্ত, আমার লোগে ফর্মালিটিস বেশী দূর আগাবে না।</p>
<p>খেতে বসেছি, রেস্ট্রুরেন্টটা জাহাজের পিছনে, চারিদিক গ্লাস দিয়ে ঢাকা, প্যানারোমা ভিউ। এখন মনোযোগ খাবারে, কোনটা রেখে কোনটা খাবো টাইপ অবস্থা। দুজনের জন্য মোট গ্লাস রাখা আছে ৮ টা, কাটা চামচ, ছুরি, চাকু এতগুলা কেন? মানুষ তো দুজন। যায় হোক, ফাইন-ডাইনিং বা এই ধরণের জাহাজে আগামী ১৬ দিন এই চলবে। ব্যাপার গুলো মোটামুটি সবই জানা, আমি অনেক ঘাটের পানি খাওয়া মানুষ।</p>
<p>হটাৎ হকজন বাইরে তাকাচ্ছে, কি ব্যাপার। আমরাও দেখলাম। সে এক অদ্ভুত মুহূর্ত, আমাদের জাহাজ পোর্ট ছেড়েছে, ধীরে ধীরে মূল ভূখণ্ড দূরে সরে যাচ্ছে। আচ্ছা ওরা হর্ণ বাজাচ্ছে না কেন? বাজালে ভালো হতো, এতো নীরবে পৃথিবী ছেড়ে অন্য এক জগতে যাচ্ছি ব্যাপারটা ঠিক না। আমরা খাবার টেবিল ছেড়ে বাইরে এসে দাড়ালাম, খাবারের জন্য আমরা এখানে আসিনি, আমরা এসেছে এই শহর জনপদ ছেড়ে যাবার জন্য। আমরা যাচ্ছি, এই প্রথম সব বাধা পেরিয়ে আমাদের মনে হলো সত্যিই তো আমরা যাচ্ছি।</p>
<p>আগামী তিন রাত আমরা সমুদ্র পাড়ি দিবো। ড্রেক প্যাসেজ এ ঢুকে যাবো। সামনে হয়তো কিছু ভয়ংকর সময় অপেক্ষা করছে।</p>
<p>এন্টার্কটিকা মানে দক্ষিণ মেরু। অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা এন্ড দক্ষিণ আমেরিকা থেকে যাওয়া যায়। সবচেয়ে সহজ পথ দক্ষিণ আমেরিকার চিলির পুন্টা এরিনা বা আর্জেন্টিনার উসুইয়া থেকে। এখন থেকেই এই শেষ মহাদেশে যাবার দুরত্ব কম। বেশীর ভাগ এক্সপেডিশন সিপিগুলো এখন থেকেই ছেড়ে যায়। এখন থেকে সমুদ্রের যে অংশ পাড়ি দিতে হয় তার নামই ড্রেক প্যাসেজ। সমুদ্রগামী সব নাবিকেরাই পৃথিবীর এই ভয়ংকর উত্তাল সুমুদ্র সম্পর্কে অবহিত। ড্রেক প্যাসেজ অনেকটা বোতলের মুখের মতো। দক্ষিণের ঠান্ডা উত্তরের উষ্ণ সমুদ্রস্রোত এখানে এসে তৈরী হয় এক লন্ড্রী মেশিন। সমুদ্র হয়ে উঠে উত্তাল। আমরা যাচ্ছি ডিসেম্বরে, বছরের এটাই সব থেকে ভালো সময় সমুদ্র পারি দেবার।ভালো বলতে কতটা ভালো তা আমাদের বোঝার বাইরে ছিলো। শারমীনের অপছন্দ জাহাজের দোলানী, আমি নিজেও যাবার আগে তাকে বলেছি এই ড্রেক প্যাসেজ -এর কথা, কিছু ইউটুব ভিডিও দেখে আমারও শংকা ছিলো। সী -সিকনেসের মেডিকেশন সাথে আছে, আমাদের ক্রুজেও যথেষ্ট ভালো মেডিকেল সিস্টেম আছে, ডাক্তার আছে।</p>
<p>ড্রেক বাদ দিয়েও এন্টার্টিকা যাওয়া যায়। আন্টার্কটিক পেনিনসুলাতে শেটল্যান্ড আইল্যান্ড-এ চিলির বেস আছে, সীমিত কিছু প্লেন উঠা নামা করে। কিছু এক্সপেডিশন কোম্পানী এয়ার-ক্রুজ বলে ট্রিপের ভ্রমণসূচী তৈরী করে। প্লেনে নেমে সেখান থেকে সরাসরি এন্টার্কটিকা। আমার ইচ্ছাটা ছিলো ড্রেক প্যাসেজ পাড়ি দেয়া, এন্টার্কটিকা ভ্রমণের এটা বড় একটা অংশ। এখনকার আধুনিক জাহাজগুলো আইস &#8211; ক্লাস, বরফ ভেঙে যেতে পারে, নতুন প্রযুক্তি আর আবহাওয়া  সবই অভিজ্ঞ নাবিকের জানা। এধরের জাহাজের নাবিকেরা জানে কখন কীভাবে পাড়ি  দিতে হবে ড্রেক। কাজেই যাবই যখন ড্রেক ধরেই যাবো।</p>
<p>পোর্ট ছাড়ার পর প্রথব রাত।  জাহাজ মূলভূখন্ডের কাছ ঘেষে ধীরে ধীরে এগুছে। রাতে জাহাজে ডিনার, কিছু নতুন মানুষের সাথে পরিচয়, আড্ডা আর শান্ত সমুদ্রের মাঝেই ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালটা শুরু সমুদ্রের মাঝামাঝি, নাস্তা শেষ করে সিগার রুমে আড্ডা, জাহাজের এপাশ ওপাশ ঘুরে দেখা করতে করতেই আমরা অফিসিয়ালি ড্রেক প্যাসেজে ঢুকলাম। জাহাজের উপরের ডেকে অবসেরভেশন ডেকে গিয়ে মাঝে মাঝে বসলাম। এই জায়গাটা সমুদ্র দেখার জন্য, ১৮০ ডিগ্রী গেল;গ্লাস দিয়ে ঘেরা, সামনের দিকটা জাহাজের মাথা দেখা যায়, সাগর কেটে জাহাজ সামনে এগুচ্ছে, যতদূর চোখ যায় শুধু নীল, দূরে এক সরলরেখায় সমুদ্র আর আকাশের নীলের বিচ্ছেদ। এই আমাদের প্রথম দিন, আজ এবং আগামীকাল এই দুদিন আমরা পাড়ি দিবো ড্রেক। সমুদ্র আর জাহাজ দুলছে খানিক, খুব বেশী টের পাওয়া যাচ্ছে না। দিন কেটে যাচ্ছে লাঞ্চ, আফটার নূন টি, ক্যাপাচিনো, আর মাঝে মাঝে কিছু ড্রিঙ্কস।</p>
<p>ভ্রমণবিলাসীতার এ এক অন্য রূপ। জাহাজে আছে ১৮০ জন গেস্ট, মোট ক্রু মেম্বার আছে ২১৯ জন। রুমে বাটলার আছে ২৪ ঘন্টা সার্ভিস দেবার জন্য, মেইড আসে ৩ বার রুম আর কাপড় চোপড় গুছিয়ে রাখার জন্য। বিকালের দিকে কিছু স্পেশাল চকলেট রাখা থাকে রুমে, সাথে পরের দিনের একটিভিটি প্ল্যান, অনেকটা ৪ পাতার নিউস পেপারের মতো, শীপেই চাপানো হয় প্রতিদিন, কারণ আমাদের আগামী ১৬ দিনের কোনো লোকেশন এন্ড প্লানইনিং ফিক্সড নয়। সব কিছুই নির্ভর করে বাইরের আবহাওয়া আর সুমুদের উপর।</p>
<p>শারমীন আগে থেকেই রিসারভেশন দিয়ে রেখেছিলো লা-দাম রেস্ট্রুরেন্টে। ইটা ফ্রেঞ্চ রেস্ট্রুরেন্ট, শিপে এই রেস্ট্রুরেন্টটা ছোট আকারের, কিন্তু একটু অন্যরকম। এখানে খাবার আসবে, ড্রিঙ্কস আসবে ফ্রেঞ্চ স্টাইলে। একটু ভালো ড্রেস আপ করেও যেতে হবে, রোমান্টিক ভাব নিয়ে ডিনার প্রিপারেশন। রেস্ট্রুরেন্ট একটু ভিন্ন আর ছোট হবার কারণে এখানে আগে থেকেই বুকিং দিতে হয়, কিছু এক্সট্রা ফী রাখা হয় ডিমান্ড মেইনটেইন করার জন্য। শারমীন আমি গেলাম, ভাব খানা এমন এই টাইপ রেস্ট্রুরেন্টে আমরা সপ্তাহে দু-তিন বার ডিনার করি, যাই হোক, চারপাশের কর্ম কান্ড দেখে পুরো ব্যাপারটা চলে যায় হাসির পর্যায়ে। তিন থেকে ৪ জন মিলে টেবিলে সার্ভ করবে। এক এক জনের এক এক দায়িত্ব। কমপ্লিট স্যুট পড়া লোকটা বিভিন্ন ওয়াইন-এর নাম বলে যাচ্ছে, সাজেশন দিয়ে যাচ্ছে কোন কোর্স খাবারের সাথে কোন ওয়াইন -টা ভালো হবে। বলে রাখা ভালো এখানে আমাদেরকে ৭ কোর্স খায়ানো হবে। কী সর্বনাশ। আমি এক পেলা ভাত আর সেই একই পেলায় এক তরকারী খাওয়া মানুষ। সামনে গ্লাস রাখা আছে দুজনের জন্ন্য আটটা। কি খাবো তার উপর নির্ভর করে গ্লাস  থাকবে, অন্য একজন এসে বাকী গ্লাস সরিয়ে নিবে।</p>
<p>কি আছে জীবনে &#8211; এই থিউরি আমার সব সময়ের। আনতে থাক একটার পর একটা, যা রেকমেন্ড করবি চেকে দেখবো। সেই চেকে দেখতে দেখতে তখন দেখি চারিদিক দুলছে। না, ফ্রেঞ্চ রেস্টুরেন্টের কোনো দশ নেই, বাইরে ড্রেক তার ধারণা কিছুটা দেবার চেষ্টা করছে। ডিনার শেষে রুমে, শুয়ে পড়তে হবে, দোলানী বাড়ছে।</p>
<p>তার পর আর সারারাত ঘুম হয়নি তেমন, এই সেই ভয়ংকর ড্রেক, সে তার রূপ নিয়েছে। রুমে এ বাতি নেভানো, বাথরুমের বাতি জ্বালিয়ে দরজা একটু ফাঁকা ছিলো, দরজা বন্ড হয়ে গেছে। চারপাশ থেকে কিছু ঝাপসা আলো এখনও আছে। জাহাজ দুলছে, রুমের ফার্নিচার গুলোতে কচ-কচ শব্দ হচ্ছে। টিভিটা শক্ত করে লাগানো আছে, তার পরও ডান বায়ে কাপছে। আমি জানি শারমীন জেগে আছে, কিন্তু এখন আর তাকে বিরক্ত করা যাবে না। সে ঘুমাবে না, কিন্তু চুপ করে শুয়ে থাকবে, যা কিছু হবে মাথার ভেতর, এখন কোনো কথা না বলাই ভালো। সী -সিকনেস এর মেডিকেশন নেয়া আছে দুজনেরই। কিছুক্ষন পর শারমীন আর বোধয় পারলো না, সোজা বাথরুম আর বমি। বিছানা ছেড়ে বাথরুমে যাওয়া আশাটাও চ্যালেঞ্জ, ধরে ধরে যেতে হয়। তার নির্ঘুম রাত, জাহাজ সামনে পিছনে দোলার মাঝামাঝি হটাৎ হটাৎ মনে হয় শূন্যস্থানে পরে যাচ্ছে, সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ছে পাশে, শব্দ শোনা যায়, ভয় হয়।  আমি ড্রেক এর কিছু রূপ দেখবো এমনটা আশা আমার ছিলো, ইচ্ছা ছিল কিছু ছবি বা ভিডিও করবো। কিন্তু সেই রাতে আর বিছানা ছাড়ার সাহস হয়নি, এখানে সোজা হয়ে হাঁটার অবস্থা নেই। আমি জানি এ জাহাজ ডোবার নয়, আমি আছি একবিংশ শতাব্দীতে, আমরাই প্রথম এন্টার্টিকা যাচ্ছি না। ভয়ের কিছু নেই, সেই ভেবেই ভাবনা আসে -আচ্ছা লোহার এই যন্ত্র যদি ডুবে যায় কী করবো। লাইফ জ্যাকেটগুলো কী বিছানার পাশে এনে রাখবো? রুমেই আছে ৪ সেট। আবার জানি এ এক অহেতুক ভয়। ফিরে এসে এখন জানি, ওই ড্রেকের জন্যই আমি এন্টার্টিকা গিয়েছি। জীবন মানেই তো অভিজ্ঞতা, কিছু গল্প যা ভোলার নয়। ড্রেকের সেই রাত মনে থাকবে। সকালের দিকে দুচোখ বুজে ঘুম আসার চেষ্টা, সমুদ্র এখন বেশ খানিকটা শান্ত, জাহাজ দুলছে কিন্তু শুধুই সামনে পিছনে, অনেকটা দোলনায় দোল খাবার মতোই অল্প কয়েক ঘন্টা ঘুমিয়ে নিলাম।</p>
<p>The post <a rel="nofollow" href="https://www.ghurunchi.com/%e0%a6%85%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%a3%e0%a7%87%e0%a6%b0/">অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণের গল্প</a> appeared first on <a rel="nofollow" href="https://www.ghurunchi.com">ঘুরুঞ্চি ম্যাগাজিন</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>অ্যান্টার্কটিকা যাবার প্রস্তুতি</title>
		<link>https://www.ghurunchi.com/%e0%a6%85%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[রেজাউল বাহার, যুক্তরাষ্ট্র  ]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 21 Nov 2022 04:18:39 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অ্যান্টার্কটিকা]]></category>
		<category><![CDATA[ঘুরুঞ্চি ওয়েবসাইট]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.ghurunchi.com/?p=2024</guid>

					<description><![CDATA[<p>গত বছর পাচেক অ্যান্টার্কটিকা নিয়ে টুকিটাকি লিখছি। জেগে থাকা স্বপ্ন থেকে স্বপ্নময় এক জগৎ দেখা এখন শেষ আর যখনই মনে হয় শেষ, শুরুটাও আবার সেখানে। শারমিন আর আমার জগৎ ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবীর শেষ প্রান্ত দেখা শেষ। সে এক অদ্ভুত স্বপ্নময় জগৎ, হয়তো পৃথিবী নয়, হয়তো অন্য এক ভূবন। পৃথিবীর শেষ মহাদেশ, সাদা মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা থেকে [&#8230;]</p>
<p>The post <a rel="nofollow" href="https://www.ghurunchi.com/%e0%a6%85%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d/">অ্যান্টার্কটিকা যাবার প্রস্তুতি</a> appeared first on <a rel="nofollow" href="https://www.ghurunchi.com">ঘুরুঞ্চি ম্যাগাজিন</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[		<div data-elementor-type="wp-post" data-elementor-id="2024" class="elementor elementor-2024">
									<section class="elementor-section elementor-top-section elementor-element elementor-element-1ddd0b67 elementor-section-boxed elementor-section-height-default elementor-section-height-default wpr-particle-no wpr-jarallax-no wpr-parallax-no wpr-sticky-section-no" data-id="1ddd0b67" data-element_type="section">
						<div class="elementor-container elementor-column-gap-default">
					<div class="elementor-column elementor-col-100 elementor-top-column elementor-element elementor-element-6d0dd947" data-id="6d0dd947" data-element_type="column">
			<div class="elementor-widget-wrap elementor-element-populated">
								<div class="elementor-element elementor-element-528b5977 elementor-widget elementor-widget-text-editor" data-id="528b5977" data-element_type="widget" data-widget_type="text-editor.default">
				<div class="elementor-widget-container">
			<style>/*! elementor - v3.13.3 - 28-05-2023 */
.elementor-widget-text-editor.elementor-drop-cap-view-stacked .elementor-drop-cap{background-color:#69727d;color:#fff}.elementor-widget-text-editor.elementor-drop-cap-view-framed .elementor-drop-cap{color:#69727d;border:3px solid;background-color:transparent}.elementor-widget-text-editor:not(.elementor-drop-cap-view-default) .elementor-drop-cap{margin-top:8px}.elementor-widget-text-editor:not(.elementor-drop-cap-view-default) .elementor-drop-cap-letter{width:1em;height:1em}.elementor-widget-text-editor .elementor-drop-cap{float:left;text-align:center;line-height:1;font-size:50px}.elementor-widget-text-editor .elementor-drop-cap-letter{display:inline-block}</style>				<p>গত বছর পাচেক অ্যান্টার্কটিকা নিয়ে টুকিটাকি লিখছি। জেগে থাকা স্বপ্ন থেকে স্বপ্নময় এক জগৎ দেখা এখন শেষ আর যখনই মনে হয় শেষ, শুরুটাও আবার সেখানে। শারমিন আর আমার জগৎ ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবীর শেষ প্রান্ত দেখা শেষ। সে এক অদ্ভুত স্বপ্নময় জগৎ, হয়তো পৃথিবী নয়, হয়তো অন্য এক ভূবন।</p>
<p>পৃথিবীর শেষ মহাদেশ, সাদা মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা থেকে আমরা দুজন ঘুরে এসেছি। ঠিক এই কথাটা বলতে গিয়েও মনে হলো, না, হয়তো ঘুরে আসিনি, ওটা ছিলো ঘুমিয়ে থাকা এক স্বপ্ন। অনেক ছবি আর ভিডিও আছে, তার মানে আমরা গিয়েছিলাম। কিন্তু জায়গাটা ঠিক ছবি, ভিডিওর মতো নয়, পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে যা অনুভব করা যায়, তাকি ছবিতে ভেসে উঠে।</p>
<p>হয়তো কোনো একদিন পৃথিবীর এই প্রান্তের গল্প নিয়ে একটা বই লিখে ফেলবো। ইচ্ছে করে না. লিখে কি বলা যাবে? মাঝে মাঝে গভীর ঘুমের স্বপ্নে যা ভেসে উঠে, সকালে জেগে কি তা কাউকে বলা যায়?</p>
<p>বই না হয় কোনো একদিন লিখেই ফেলবো। আপাতত সার সংক্ষেপ বলি শারমিন আর আমি একসাথে আছি ২০০৫ থেকে। আর সব মানুষ বা দম্পতিৰ মতো আমাদের নিজস্ব গল্প আছে কিছু নিজেদের, কিছু অন্যকে বলা যায়. আমাদের ভ্রমণের গল্প হয়তো সবাইকে বলা যায়. কেন ভ্রমণ করি সে এক লম্বা ফিলোসোপিকাল আলাপ। এই আলাপে গেলে জীবন আর বাস্তবতার অনেক কিছুই চলে আসবে, গল্প চলে যাবে অন্য দিকে। কিন্তু সই একই সুতায় গাঁথা।</p>
<p>ভ্রমণ কেন করবেন না সে ব্যাপারে আমি সংক্ষেপে বলতে পারি। যেমন ধরুন, আপনি অপেক্ষায় আছেন, একদিন এই পৃথিবী ছেড়ে আর সবার মতো আপনাকেও যেতে হবে. ওপারে আছে অনন্তকাল। যদি ভাগ্য ভালো হয় হয়তো স্বর্গে একদিন যাবেন। আর তা যদি সত্য হয় তবে অযথা দুই দিনের এই পৃথিবীতে ভ্রমণ করে অর্থ সময় নষ্ট করার কি প্রয়োজন। স্বর্গে অনন্ত কালে যা কিছু দেখেননি, ঈশ্বরকে বলবেন, উনি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাবে।</p>
<p>যাই হোক, গল্প হয়তো আবার অন্য দিকে চলে যাচ্ছে। আমরা দুজন ভ্রমণ করি শ্রেফ অভিজ্ঞতার জন্য। যা কিছু দেখা যায়, জানা যায় দুচোখ বুজিবার আগে।&nbsp;অনেকটা পথ ঘুরে, বহু মানুষের জীবন যাত্রা দেখে, স্বচক্ষে ইতিহাসের কাছাকাছি দাড়িয়ে অবশেষে যেটুকু বোঝা যায় তা হলো- কত ক্ষুদ্র আমি, কতো&nbsp; ক্ষুদ্র তুমি।&nbsp;জীবনের মানে কী, বেচে থাকার এতটা লালসা কোথায়, কেন?</p>
<p>আমার কাছে জীবন মানে তিনটা জিনিস- মস্তিস্ক (মন), স্থান আর কাল. জীবন মানেই তো ঘটে যাওয়া অসংখ্য ঘটনার সমিষ্টি। ঘটনা ঘটছে স্থান-কালে, আর মস্তিস্ক কিভাবে তা দেখছে। জীবনের চাওয়া পাওয়া, রাগ ঘৃণা, ভালোবাসা যত ধরনের অনুভূতির কথাই&nbsp; বলি না কেন, সব ওই মস্তিকে। ভালো থাকা এক ধরনের দক্ষতা, অনেকটা মেসির ফুটবল খেলার মতো. অনুশীলন করতে হবে, মস্তিষ্কের অনুশীলন। এই যা, আবার গল্প দিকে চলে যাচ্ছে। এতক্ষনে হয়তো অনেকে মনে করছে এই লোক এতো পেছাচ্ছে কেন. সোজা সুজি অ্যান্টার্কটিকা কিভাবে গেলো বলে দিলেই তো হয়. শুনলাম, দু-চারটা ছবি দেখলাম, ভালো লাগলে একটা &#8220;লাইক&#8221; ক্লিক করে অন্য কোথাও চলে গেলাম। থামুন ! পেছাচ্ছি কারণ আমার মস্তিষ্কে যা কিছু ঘটে, সে বের করতে গেলে তো ছোট গল্প নয়, উপন্যাসের পর উপন্যাস লিখতে হবে.</p>
<p>হুট্&nbsp; করে কিন্তু আমরা অ্যান্টার্কটিকা চলে যায়নি।অনেকটা পথ, অনেকটা চিন্তা, অনেকটা সঞ্চয়, আর প্রবল আকাঙ্খার পরেই শেষ মহাদেশে আমাদের পদার্পন।&nbsp;আমাদের ভ্রমণের সারসংক্ষেপটা অনেকটা এরকম:</p>
<p>বছর বিশেক আগে আমেরিকাতে এসেছি। কোনো ফাইন্যান্সিয়াল ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়া। আর সেখান থেকেই প্রথম কয় একটা বছর বেড়াছেড়া অবস্থা। রীতিমতো জীবন যুদ্ধ। ছোট বেলায় আমাদের শেখানো হতো &#8211; টাকা পয়সাই জীবনের সব না, টাকায় সুখ-শান্তি আনে না. কথা হয়তো খানিকটা সত্য। যেটা আমাদের শিখানো হতো না -টাকা পয়সা ছাড়া জীবনে সুখ শান্তি অসম্ভব, এবং এটা সত্য। পৃথিবীর বেশ কিছু মানুষ যাদের টাকা নেই তারা ছুটছে টাকার পিছনে, কিছু মানুষ যাদের অনেক টাকা আছে তারাও ছুটছে টাকার পিছনে।ছুটে ছুটে কোথায় যাচ্ছে আমি জানি না. আমি যেটা জানি, টাকার প্রয়োজন অনেক, তবে জীবনের সাথে সামঞ্জস্য মেলানোটা অনেকেই ঠিক মতো করতে পারে না।</p>
<p>আমার কাছে জীবন অনেকটা এক তরকারী দিয়ে ভাত খাবার মতো. কেউ আছে, এক তরকারী দিয়ে খাচ্ছে, কেউ আবার দশ পদ সামনে নিয়ে একটা একটা করে চেকে যাচ্ছে। এক জীবনে সব কিছু চাইলে তো হবে না. জীবনের পথ একটা, জীবনের চাওয়া গুলোকে গুরুত্ব আকারে সাজাতে হবে. গাড়িও কিনবো, ফ্লাট হবে, পোলাপান ইংলিশ মিডিয়ামে যাবে, সামাজিকতা বজায় রাখতে হবে, গয়না গাটিতে মোড়ানো থাকবে বিবাহীত জন, সপ্তাহে আবার দু-তিনবার ডিনারে যেতে হবে. সেই সাথে ঘরে দুই-একজন কাজের মানুষ, ড্রাইভার তো থাকতেই হবে. ছেলে-মেয়ে কি রিকশায় করে স্কুলে যাবে? যাই হোক, স্টেটাস স্টেটাস স্টেটাস সব চাই. খুব হাতে কোনো কিছু মানুষই হয়তো এই সব স্টেটাস আর চাওয়া-পাওয়া মেটাতে পারে। পরিবার বেশীর ভাগ মানুষই দৌড়ের উপর থাকে কিভাবে খাবে, কিভাবে বাসা ভাড়া দেবে, কিছু চিকিৎসা, ছেলে-মেয়ের পড়াশুনার খরচ।</p>
<p>জীবন ততো জটিল যখন মানুষ একের পর এক দায়িত্ব / বোঝা বাড়াতে থাকে। এই দায়িত্ব/বোঝা বলতে আমি সব কিচিছুকেই বোঝাচ্ছি। বাসায় একজন ড্রাইভার রাখা এক বোঝা, ১০ হাজার টাকার বাসা ভাড়া থেকে ১২ হাজারে উঠা বোজা, বিয়ে করাটাও বোঝা যদি সামর্থ না থাকে। এ পৃথিবীতে যে মানুষের জন্ম এখনো হয়নি তাকে বংশ বৃদ্ধি আর ভালোবাসার অজুহাতে নিয়ে আনাটাও বোঝা। তারপরও জীবনে বেচে&nbsp; থাকার জন্য কিছু বোঝা আমাদের বইতেই হবে. আর সেখানেই জীবনের চাওয়া গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে সাজাতে হবে।</p>
<p>আমাদের জীবনে জাগতিক নিয়মে বোজার পরিমান একটু কম। তাছাড়া, দুজনই ভালো চাকরী করি সেটাও একদিনের নয়, পেছনে আছে লম্বা সময়ের পরিশ্রম। এতক্ষনে আপনারা মোটামুটি নিশ্চিত, আমার পেচানোর স্বভাব।আসলে ব্যাপারটা তা নয়, সাথে থাকুন। আসছি অ্যান্টার্কটিকা গল্পে।</p>
<p>২০০৮ সালে শারমিন আর আমি প্রথম ইন্টারন্যাটিনাল ট্রিপে বের হয়, বাহামাস ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ। তখনও আমরা বুঝে উঠতে পারিনি যে রক্তে ভ্রমণ নেশার ওষুধ ঢুকাচ্ছি। করতে করতে দুনিয়ার বেশ কিছু দেশ ঘোড়া হয়ে গেলো। ২০১৬ সাল, শারমিন টিভিতে কোনো একটা ডকুমেন্টারী দেখছে, অ্যান্টার্কটিকা নিয়ে। হটাৎ বলে ফেললো -আমি অ্যান্টার্কটিকা যেতে চাই. এক কার দিয়ে ঢুকালাম, কিন্তু অন্য কান দিয়ে বের করার আগে গুগল করে বেসিক ইনফরমেশন নিয়ে যা জানলাম -হ্যা, যাওয়া যায়. ভয়ংকর খরচ. শারমিনের জীবনের পসিটিভ অনেক কিছুই আছে, হয়তো সেটাও একটা বইয়ের আকার নিবে। যাই হোক, সে বললো টাকা সেভ করা শুরু করবে। আমাদের দুজনের আয়ের কমপ্লিট ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট শারমিনের হাতে।সী ইস নট অনলী এক্সপার্ট, সী ইস ব্রিলিয়ান্ট। বছর তিন পার হতেই হটাৎ অ্যান্টার্কটিকা যাবার সঞ্চয়ের হিসাব দিলো। অনেক টাকা জমে গেছে, ১৭ হাজার ইউ এস ডলার হাতে। তারপরও যাবার জন্য যা দরকার তার অর্ধেক রাস্তায় আছি আমরা। কোনোমতে সস্তায় অ্যান্টার্কটিকা যাওয়া যায়, জনপ্রতি তাও হাজার দশেক লাগে। আমরা ওভাবে যাবো না, জীবনে একবারই যাবো, যাবার মতো যাবো। আরাম করে যাবো। ড্র্রেক প্যাসেজ ক্রস করে যাবো, এক্সপেডিশন শিপ এ যাবো, লাক্সারী শিপ এ যাবো। খরচ লাগবে ৩২,০০০ ইউ এস ডলার। কী আছে জীবনে, অদৃশ্য বন্ধুক বের করে গুলী ছুড়লাম। ক্রেডিট কার্ড থেকে বাকী টাকা দিবো। এক বছররের বেশী সময় হাতে নিয়ে বুকিং, এক বছর ধরে ক্রেডিট কার্ড এর দেনা পাওনা মিটাবো। ২০১৯ এর আগেস্টে সিলভার-সী ক্রুস লাইনে ফুল পেমেন্ট করে দিলাম ২০২০ এর নভেম্বর ভয়াজের জন্য। ১৪ রাতের ভয়েজ, নবেম্বর ভয়াজের বুকিং ফী একটু কম. অ্যান্টার্কটিকা যাবার সময় নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী। এখানে সামার/গ্রীস্ম বলে কিছু নেই. ডিসেম্বর এ তাপমাত্রা সবচেয়ে ভালো থাকে, শূন্য ডিগ্রী। সুর্য দেখা যাই ১৮ ঘন্টার মতো। ডিসেম্বর এবং ডিসেম্বর এর শেষ অংশে (ক্রিসমাস আর নিউ ইয়ার) খরচ সবচে বেশী।</p>
<p>অ্যান্টার্কটিকা যাবার বীজ বপন হলো, এখন অপেক্ষার পালা। সামনে সময় এক বছর তিন মাস. সময়টা কিন্তু অনেক লম্বা, কত কিছুই তো ঘটে যেতে পারে। ২০২০ এর শুরুর দিকে অ্যান্টার্কটিকা যাবার কাপড়-চোপড় কেনা কাটা শুরু করলাম, অনেকটা আনন্দ নিয়ে। এখানে যাবার জন্য শীতের জামাকাপড় সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই কেনাকাটার পর্ব চলবে সামনের বেশ কয়েক মাস.</p>
<p>শুরু হলো বিশ্ব জুড়ে কোভিড, একে একে বদলে যেতে থাকলো জীবন যাত্রা, শুরু হলো আন্তর্জার্তিক ভ্ৰমণ নিষেধাজ্ঞা। চারিদিকে মানুষ হারাচ্ছে চাকুরী, মারা যাচ্ছে আপনজন। অদ্ভুত খারাপ সময় সামনে।</p>
<p>আমার বাবা মারা গেছেন ২০১৯ এর ফেব্রুয়ারী। মা থাকেন বড় ভাইয়ের সাথে ঢাকায়। বেশ কিছুদিন যাবৎ মাযের জন্ডিস। চারিদিকে মহামারী, ঘোরছেড়ে বের হচ্ছে না মানুষ, হাসপাতালগুলোর অবস্থা নড়বড়ে, ডাক্তারও রোগী দেখা সীমিত করে রেখেছে। আমরা ছয় ভাইবোন। বড় ভাই আর বড় বোন আছে ঢাকায়। বাকিরা আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া।</p>
<p>জুন মাসের মাঝামাঝি, সন্ধ্যার পর অফিস থেকে ফিরে&nbsp; আমি কম্পিউটার নিয়েই থাকি, টিভি চলে সামনে। বোনের ফোন এলো. সে তার জীবনের সবচেয়ে খারাপ খবর টা আমাকে দেবে। আমি শুনলাম। তার পর থেকে আমার মাথার মধ্যে দিয়ে কী ঘটে গেছে, কী হয়েছিলো এসব নিয়ে এখন লিখতে ইচ্ছা হয়েছে না।&nbsp;আমার মায়ের প্যানক্রেটিক ক্যান্সার।&nbsp;এর পরের সময় গুলো যেভাবে যাবার কথা তাই. শারীরিক অবস্থা, অসুখের ধরণ, সময়, আর সারা বিশ্বের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আমার মায়ের হাতে সময় আছে ৬ থেকে ১২ মাস. মায়ের অসুখটা নিয়ে আমিও সবচেয়ে বেশি ঘাটাঘাটি করেছি, জানার চেষ্টা করেছি। আমি মিরাকেল এ বিশ্বাস করি না. প্রকৃতি, জীব, জীবন কোনো কিছুই নিয়মের বাইরে নয়। আমার বোঝামতে মায়ের সময় ধরে নিলাম ৬ মাস এভাবেই এগোতে হবে।</p>
<p>অ্যান্টার্কটিকা যাবার প্ল্যান ক্যানসেল করবো নভেম্বরের ঠিক ৩ মাস আগে. বুকিংয়ের এর নিয়ম অনুযায়ী ৩ মাস আগে ক্যানসেল করা যায়. সারা বিশ্বে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থেকে আমিও নিশ্চিত ছিলাম আমি নিজে থেকে ট্রিপ ক্যানসেল না করলেও সিলভার-সী করবে। এবং তাই হলো. সিলভার-সী ২০২০ এর সব ভয়েজ&nbsp; ক্যানসেল করলো।অনেকগুলো টাকা জমা দেয়া, কিছুটা ভয় আছে. এই ধরেনর ইকোনোমিতে বিসনেস ব্যাঙ্ক-ক্র্যাফট করে, দেউলিয়া হয়ে যায়. কিছুই করার থাকে না. বেশ কয়েকবার চিন্তা করলাম টাকা তুলে ফেলবো। শারমিন মানা করলো, রিস্ক নিতে বললো, টাকা তুললে অন্য কাজে খরচ হয়ে যাবে। অ্যান্টার্কটিকা আর যাওয়া হবে না. রিস্ক নেবার একটা ভালো দিক হলো সিলভার-সী পরের বছর, ২০২১ এর ডিসেম্বর এর পিক-সীজনের বুকিং দিলো, নতুন ভয়েজের খরচ ৪৮,০০০ টাকা। আমাদের কোনো এক্সট্রা টাকা দিতে হবে না. এই হলো সুবিধা। টাকা&nbsp; তুললাম না. পরের বছরের বুকিং নিলাম।</p>
<p>এর পর প্রতিটা মাস, প্রতিটা দিন খান খেটেছে মাকে নিযে। কবিড নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দেশে গেলাম দুবার। শেষ বার শেষ যাওয়া মায়ের জন্য। ছিলাম আড়াই মাসের মতো।&nbsp;২০২১, এপ্রিলের মাঝামাঝি আমার মা চলে গেলেন।&nbsp;মা যাবার পর আমার মাঝে মাঝে মনে হতো আমার নিজের ছেলে-মেয়ে থাকলে ভালোই হতো. মায়াটা অনত্র থাকতো। চারপাশের সবাইকে দেখে বুঝি যার সন্তান আছে, তার চিন্তা চেতনার প্রথম মানুষটাও তার নিজস্ব সন্তান। আমরা প্ল্যানিং করেই সন্তান না নিয়ে আছি. কাজেই আমার ক্ষেত্রে আমার চিন্তা চেতনার ক্ষেন্দ্র বিন্দু ছিলো আমার মা।</p>
<p>আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ, আমার রাগ কষ্ট চিৎকার সব ঢেলে দেবার জায়গা আমার মা, আমার শেষ আশ্রয় আমার মা।&nbsp;মা নেই, আমি স্বাধীন। আর কোনো চিন্তা নেই. সমস্যা হলো এক ধররেন ডিপ্রেশনের মধ্যে পরে গেলাম। আমি জীবনমুখী মানুষ, আমি ডারউইনের লোক, বিজ্ঞান আমার সামনে। যত কষ্টই হোক, আমার মা না, আর কখনো দেখা হবে না, আমাকে ভালো থাকতে হবে, আমি ভালো থাকলে সবচেয়ে যে মানুষটি বেশী খুশি হতেন তা হলো মা।</p>
<p>মা মারা যাবার সময় আর ঢাকাতে যেতে পারিনি। সময় দেননি, ডাকার এয়ারপোর্ট ও বন্ধ, কবিড&nbsp; তখন ভয়াবহ।&nbsp;মা যাবার এক দিন পরেই আমি টিকিট কেটে অল্যাস্কা চলে গেলাম। অনেক দূরে কোথাও যেতে হবে আমাকে, গাড়ি নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরলাম। কোনোভাবে মেক জানানোর চেষ্টা করলাম &#8211; আমি ঠিক আছি. সব ঠিক হয়ে যাবে।&nbsp;মা যাবার ২ মাস পর কোরবানী। আমাদের গ্রামের বাড়ী পটুয়াখালী। বাবা-বা দুজনেই ওখানে আছেন। আমাদের গ্রামের বাড়ী, গ্রামের নাম লোন্দা।</p>
<p>প্রতিবছর কোরবানীর সময় দেশের বাইরে থাকা ভাই-বোনেরা দেশে টাকা পাঠাই কোরবানী দেয়ার জন্য। ভাইয়া, ভাবী&nbsp; আর তাদের একমাত্র ছেলে ইমু কোরবানীর ঈদে বাড়ি গেলো। পটুয়াখালী যেতে হয় বরিশালের উপর দিয়ে। বরিশালে আমার ভাবীর বাপের বাড়ী। লোন্দা গ্রামে কোরবানী শেষ করে ভাবী&nbsp; ইমুকে নিয়ে বরিশাল ফিরবে বাপের বাড়ী, ভাইয়া থাকবে কিছিদিন গ্রামে। ফেরার পথে ভাবী আর ইমুকে নিয়ে ঢাকা ফিরবে। ঈদের পরের দিন গ্রাম থেকে বরিশাল ফেরার পথে আমরা ইমুকে&nbsp; হারালাম। রোড এক্সিডেন্ট।</p>
<p>দাদা-দাদীর পাশে ঘুমিয়ে পড়লো ২০ বছরের ইমু মাকে নিয়ে ডিপ্রেশন বন্ধ হয়ে গেলো। এখন ইমু. আর ভহইয়ার প্রতিটা দিন।</p>
<p>জুলাই শেষ. তারপর অগাস্ট। কানাডাতে আমার ভাইয়ের এক মাত্র ছেলে আয়ান, বয়স ১৩ বাবা মায়ের সাথে ঘুরতে গিয়ে স্পিড-বোট থেকে পরে প্রপ্রেলার ব্লেডে এক্সিডেন্ট। ভাগ্যে জীবন রক্ষা, একটা পা হয়তো যারা জীবনের জন্য নড়বড়ে। কাছের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুদের বাবা-মা অনেকেই চলে গেছেন এই বছরটাতে। বেচে যে আছি সেই তো এক সৌভাগ্য। এর পরের তিন মাস&nbsp; আমরা দুটো ইন্টারন্যাশনাল ট্রিপ করেছি। ইউক্রেইন্ আর রোমানিয়া। জীবনে ফিরে&nbsp; যাবার চেষ্টা, সোজা হয়ে আবার হেটে চলা।</p>
<p>ডিসেম্বর এর ১৯ তারিখ আমাদের ফ্লাইট অ্যান্টার্কটিকার উদ্দেশ্যে। প্রিপারেশন অনেক। গভর্নমেন্ট রেগুলেশন, কাবিদ, একের পর এক টেস্টিং, চিলিয়ান গভর্নমেন্টের অনুমতি সে এক লম্বা লিস্ট। এতো গুলো বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে, অথচ অনেক ভয়. যদি অসুস্থ হয়ে পড়ি, যদি টেস্ট রিপোর্ট পসিটিভ হয়, তাও আবার একবার টেস্ট নয় ১৮ তারিখ থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিদিন টেস্ট। যাবার আগে টেস্ট, এয়ারপোর্টে টেস্ট, হোটেলে টেস্ট, শিপে উঠার আগে টেস্ট, শিপে ১৫ দিনে ২ বার টেস্ট, প্রতিসকালে টেম্পারেচার চেক যাই হোক, অনিশ্চতা চারিদিকে। একটু সমস্যা হলেই সব শেষ।</p>
<p></p>						</div>
				</div>
					</div>
		</div>
							</div>
		</section>
				<section class="elementor-section elementor-top-section elementor-element elementor-element-831d5cb elementor-section-boxed elementor-section-height-default elementor-section-height-default wpr-particle-no wpr-jarallax-no wpr-parallax-no wpr-sticky-section-no" data-id="831d5cb" data-element_type="section">
						<div class="elementor-container elementor-column-gap-default">
					<div class="elementor-column elementor-col-50 elementor-top-column elementor-element elementor-element-dbdd0ca" data-id="dbdd0ca" data-element_type="column">
			<div class="elementor-widget-wrap elementor-element-populated">
								<div class="elementor-element elementor-element-6b259a0 elementor-widget elementor-widget-video" data-id="6b259a0" data-element_type="widget" data-settings="{&quot;youtube_url&quot;:&quot;https:\/\/www.youtube.com\/watch?v=rY47hZaNaf0&amp;feature=emb_logo&quot;,&quot;video_type&quot;:&quot;youtube&quot;,&quot;controls&quot;:&quot;yes&quot;}" data-widget_type="video.default">
				<div class="elementor-widget-container">
			<style>/*! elementor - v3.13.3 - 28-05-2023 */
.elementor-widget-video .elementor-widget-container{overflow:hidden;transform:translateZ(0)}.elementor-widget-video .elementor-wrapper{aspect-ratio:var(--video-aspect-ratio)}.elementor-widget-video .elementor-wrapper iframe,.elementor-widget-video .elementor-wrapper video{height:100%;width:100%;display:flex;border:none;background-color:#000}@supports not (aspect-ratio:1/1){.elementor-widget-video .elementor-wrapper{position:relative;overflow:hidden;height:0;padding-bottom:calc(100% / var(--video-aspect-ratio))}.elementor-widget-video .elementor-wrapper iframe,.elementor-widget-video .elementor-wrapper video{position:absolute;top:0;right:0;bottom:0;left:0}}.elementor-widget-video .elementor-open-inline .elementor-custom-embed-image-overlay{position:absolute;top:0;left:0;width:100%;height:100%;background-size:cover;background-position:50%}.elementor-widget-video .elementor-custom-embed-image-overlay{cursor:pointer;text-align:center}.elementor-widget-video .elementor-custom-embed-image-overlay:hover .elementor-custom-embed-play i{opacity:1}.elementor-widget-video .elementor-custom-embed-image-overlay img{display:block;width:100%}.elementor-widget-video .e-hosted-video .elementor-video{-o-object-fit:cover;object-fit:cover}.e-con-inner>.elementor-widget-video,.e-con>.elementor-widget-video{width:var(--container-widget-width);--flex-grow:var(--container-widget-flex-grow)}</style>		<div class="elementor-wrapper elementor-open-inline">
			<div class="elementor-video"></div>		</div>
				</div>
				</div>
					</div>
		</div>
				<div class="elementor-column elementor-col-50 elementor-top-column elementor-element elementor-element-afefa9a" data-id="afefa9a" data-element_type="column">
			<div class="elementor-widget-wrap elementor-element-populated">
								<div class="elementor-element elementor-element-a265589 elementor-widget elementor-widget-video" data-id="a265589" data-element_type="widget" data-settings="{&quot;youtube_url&quot;:&quot;https:\/\/www.youtube.com\/watch?v=3fXQhOKiXM0&amp;feature=emb_title&quot;,&quot;video_type&quot;:&quot;youtube&quot;,&quot;controls&quot;:&quot;yes&quot;}" data-widget_type="video.default">
				<div class="elementor-widget-container">
					<div class="elementor-wrapper elementor-open-inline">
			<div class="elementor-video"></div>		</div>
				</div>
				</div>
					</div>
		</div>
							</div>
		</section>
							</div>
		<p>The post <a rel="nofollow" href="https://www.ghurunchi.com/%e0%a6%85%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d/">অ্যান্টার্কটিকা যাবার প্রস্তুতি</a> appeared first on <a rel="nofollow" href="https://www.ghurunchi.com">ঘুরুঞ্চি ম্যাগাজিন</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
