বিকেলের দিকে আমরা হোরোম্বো হাট থেকে কিবো হাটে পৌঁছলাম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,৭০০ মিটার উচ্চতার হোরোম্বো হাট থেকে ৪,৮০০ মিটার উচ্চতার কিবো হাটে পৌঁছানোর কিছুটা আগে থেকেই মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছিল, কারণ বুঝতে পারছিলাম মাথাব্যথা শুরু হচ্ছে এবং পেটেও এক ধরনের অস্বস্তি অনুভব করছিলাম। ট্রেইলটি তুলনামূলক সহজ হলেও উচ্চতা ও আবহাওয়ার কারণে যাত্রাটি বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছিল। দুপুরের খাবারে অতিরিক্ত মুরগি ও ভাত খাওয়ার জন্য নিজেকে বেশ কিছুক্ষণ দোষারোপ করলাম। অনু ভাই এবং উইলিয়াম ভাই প্রায় আমার আগেই হাটে পৌঁছেছিলেন। অনু ভাইকে বললাম, আর সম্ভব হচ্ছে না, শুয়ে পড়া দরকার। তিনিও বললেন, আবহাওয়া সত্যিই বেশ প্রতিকূল, চলো রুমে ঢুকে পড়ি। প্রচণ্ড ঠান্ডা, মাথাব্যথা আর পেটের অস্বস্তি নিয়েই স্লিপিং ব্যাগে শুয়ে পড়ার চেষ্টা করলাম, কিন্তু সেই তীব্র শীত ও অস্বস্তির কারণে ভালোভাবে ঘুম হলো না।
বিকেলের দিকে ঘুম ভাঙল, চারপাশে তখন এক ধরনের থমথমে পরিবেশ। দলের কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন, আর আমার নিজেরও মনটা খারাপ ছিল। দলের সঙ্গে থাকা চিকিৎসক সিফাত আপুকে মৃদুস্বরে জানালাম আমার অবস্থার কথা। তাঁর পরামর্শে ওষুধ খেয়ে আবার চুপচাপ বসে রইলাম। সন্ধ্যার দিকে রাতের খাবার দেওয়া হলো, কিন্তু তেমন কোনো রুচি না থাকায় কোনোরকমে সামান্য কিছু খেলাম। এরপর শুরু হলো গাইডদের ব্রিফিং। তাঁরা খুব সুন্দরভাবে আমাদের সামিটের বিষয়ে সবকিছু বুঝিয়ে দিলেন এবং জোর দিয়ে বললেন—নিজের শরীরকে চিনতে হবে, অহেতুক নিজেকে ঠেলে দেওয়া যাবে না; কাউকে সংগ্রাম করতে দেখলে নিচে নামিয়ে দেওয়া হতে পারে। শুকনো মুখে সবকিছু শুনলাম। আগের ৫,০০০ মিটার উচ্চতার হাইকের অভিজ্ঞতা থেকে যে আত্মবিশ্বাস ছিল, তা ততক্ষণে কিছুটা টলে গিয়েছিল। তবু নিজেকে বোঝালাম, আরেকটি ভালো ঘুম হলেই লড়াইটা শুরু করা যাবে। সবকিছুর মধ্যেও পানি পান করা বন্ধ করিনি, কারণ শরীর পানিশূন্য হয়ে গেলে সব প্রচেষ্টা সেখানেই শেষ। এর মধ্যেই বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ায় মরিয়ম আপুকে নিচে নামিয়ে দেওয়া হলো। তাঁকে স্ট্রেচারে বেঁধে চার-পাঁচজন গাইড নিয়ে নিচে নেমে গেলেন। মন খারাপ ও উদ্বেগ নিয়ে সবাই ঘুমাতে গেলাম।
রাত ১১টার দিকে সবাই উঠে পড়লাম। মাথাব্যথা তেমন কমেনি, তবু ঠিক করলাম আর কিছুতে পাত্তা দেব না, এবার একটা মীমাংসা হয়েই যাবে। কাপড়-চোপড় ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পরীক্ষা করে মোটামুটি প্রস্তুত হলাম। হঠাৎ অভিজিৎ দা বললেন, এই পাওয়ার জেলটা রাখো—সাধারণত দৌড়বিদরা দৌড়ের সময় এটি ব্যবহার করেন; কখনো মনে হলে আর সম্ভব হচ্ছে না, তখন এটি খেয়ে নিও। তাঁর কথামতো সেটি পকেটে রেখে দিলাম। আমার নিজের হেডল্যাম্পের স্ট্র্যাপ আগেই ছিঁড়ে গিয়েছিল। দ্বৈপায়ন দা যেহেতু যাচ্ছিলেন না, তাই তাঁর হেডল্যাম্পটিই ধার নিয়ে নিলাম।
রাত সাড়ে বারোটায় সবাই বাইরে বেরিয়ে ধীরে ধীরে একটি সারিতে দাঁড়াতে শুরু করলাম। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সবার সামনে থাকবেন গাইড লরেন—তিনিই গতি নির্ধারণ করবেন, আমরা তাঁর গতি অনুসরণ করব। চারদিকে পূর্ণিমার আলো, ওপরে কিলিমাঞ্জারোর চূড়া—এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। এদিক-ওদিক তাকিয়ে অভিজিৎ দা ও উইলিয়াম ভাইয়ের মাঝখানে জায়গা করে নিয়ে যাত্রা শুরু করলাম। উইলিয়াম ভাই ফিসফিস করে বলছিলেন, উহুরু নয়তো কিছুই নয়! আমি মনে মনে ভাবছিলাম, আগে এক ঘণ্টা হেঁটে দেখি। প্রচণ্ড ঠান্ডায় চশমা ঘোলা হয়ে যাচ্ছিল, খুলে পকেটে রাখলাম—তখন চোখের ফাঁকা জায়গা দিয়ে ঠান্ডা বাতাস ঢুকতে শুরু করল। বাধ্য হয়ে আবার চশমা পরলাম, আবার তা ঘোলা হয়ে গেল। এই টানাপোড়েন বেশ কিছুক্ষণ চলল, তবু হাঁটা থামানো যাচ্ছিল না, কারণ থামলে সারি ভেঙে যেত। এরপর লক্ষ করলাম হাত জমে যাচ্ছে—পাতলা ও মাত্র এক জোড়া গ্লাভস নেওয়ার ফল। কিছুক্ষণ দুটি ট্রেকিং পোল এক হাতে নিয়ে অন্য হাত পকেটে রেখে এগোলাম। এরপর শুরু হলো আসল পরীক্ষা—পুরো পথটাই খাড়া হয়ে ওপরের দিকে উঠে গিয়েছিল। যতই ওপরে উঠছিলাম, শরীর যেন ততই অবশ হয়ে আসছিল, ডাউন জ্যাকেটও আর পর্যাপ্ত উষ্ণতা দিচ্ছিল না। প্রচণ্ড ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়লাম এবং নিজেকে দোষ দিলাম আরও মোটা জ্যাকেট না আনার জন্য।
হাত জমে কাঠ হয়ে গেলেও কেবল জেদের জোরে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। এক পর্যায়ে মনে হলো হাতের অনুভূতি বুঝি একেবারেই চলে যাচ্ছে ।
বেশ কিছুক্ষণ পর লরেনের কণ্ঠ শুনতে পেলাম, “গাইস, কংগ্র্যাচুলেশনস, ইউ আর অ্যাট ৫,০০০ মিটার!” তখনই প্রথমবার মনে হলো, আমরা হয়তো সত্যিই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। প্রায় এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় পার হয়ে গেল, শরীরে তখন আর কোনো অনুভূতি নেই, শুধু হেঁটে চলেছি। মাঝে মাঝে পানি পানের জন্য থামছিলাম, তবে গাইডরা তাড়া দিচ্ছিলেন, কারণ বেশিক্ষণ দাঁড়ালে শরীর নিস্তেজ হয়ে ঘুম চলে আসার ঝুঁকি ছিল। নিচে তাকিয়ে দেখলাম, আমাদের দলের কয়েকজন বেশ পেছনে, আরও অনেক নিচে মোশি শহর, আর ওপরে ঝকঝকে পূর্ণিমার চাঁদ। হেডল্যাম্প আগেই নিভিয়ে দেওয়া হয়েছিল, চাঁদের আলোতেই সবাই হেঁটে চলেছিলাম। আরও দুই-তিন ঘণ্টা পর প্রায় চূড়ার কাছাকাছি পৌঁছালাম, তখনও হয়তো আশি-একশ মিটার বাকি ছিল। মনে হচ্ছিল একেবারে কাছে চলে এসেছি, কিন্তু শরীর আর টানছিল না। বুঝতে পারলাম পা এলোমেলোভাবে পড়ছে, যা বেশ বিপজ্জনক, কারণ ঢাল খুব খাড়া—পা পিছলে গেলে বিপদ অনিবার্য। হঠাৎ অভিজিৎ দা চিৎকার করে বললেন তাঁর পানির পাইপ জমে গেছে, যা থেকে বোঝা গেল ঠান্ডার তীব্রতা কতটা ভয়াবহ। আবার একটু বিরতির জন্য থামলাম, এবার শরীর ছেড়ে দিয়ে একেবারে পাথরে হেলান দিয়ে বসে পড়লাম। মনে হচ্ছিল আর সম্ভব নয়, নেমে যাওয়াই ভালো। সঙ্গে সঙ্গে গাইড লরেন তেড়ে এসে বললেন, “না বন্ধু, না! তুমি হেলান দিতে পারো, কিন্তু ঘুমাতে পারবে না! তুমি খুব ভালো করছ, আমরা প্রায় পৌঁছে গেছি!” আমি মনে মনে ভাবলাম, আমি তো প্রায় শেষ, এটা কীভাবে ভালো হয়! পকেট থেকে অভিজিৎ দার দেওয়া সেই পাওয়ার জেল বের করে খেয়ে আবার হাঁটা শুরু করলাম—মেজাজ ও শরীর দুটোই তখন বিধ্বস্ত, শুধু পা দুটো এগিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ পেছন থেকে কেউ একজন বললেন, পেছনে তাকাও! তারপর দেখলাম জীবনের অন্যতম সেরা দৃশ্য—মাওয়েনজি চূড়ার পেছন থেকে ধীরে ধীরে সূর্য উঠছে, আর আমরা আফ্রিকার প্রায় সর্বোচ্চ বিন্দুতে দাঁড়িয়ে তা প্রত্যক্ষ করছি। এক অদ্ভুত উৎসাহ ফিরে এলো—এই দৃশ্যের জন্যই তো এত পথ পাড়ি দেওয়া।
অবশেষে সকাল আনুমানিক সাড়ে ছয়টার দিকে দলের সাত-আটজনসহ পৌঁছে গেলাম গিলমান্স পয়েন্ট—কিলিমাঞ্জারোর প্রথম পয়েন্টে। পানি ও খেজুর খেয়ে ক্লান্তিতে ঝিমাচ্ছিলাম, ভাবছিলাম হয়তো এখান থেকেই নেমে যাব, কারণ সেদিনই আবার নামতে হবে হোরোম্বো হাটে, যা প্রায় দুই হাজারের বেশি মিটার নিচে। দলের যাঁরা মূলত উহুরু চূড়া লক্ষ্য নিয়ে এসেছিলেন, তাঁরা আবার প্রস্তুত হয়ে গেলেন এগিয়ে যাওয়ার জন্য, কারণ এত উচ্চতায় আট ঘণ্টার বেশি সময় থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। আমি নিজে দ্বিধায় পড়ে গেলাম কী করব—শরীর বলছিল, এখানেই ঘুমিয়ে পড়ি। হঠাৎ শুনলাম সাকিব ভাই রিনি আপুকে জিজ্ঞেস করছেন, তানজিল কি উহুরু যাবে না? তা শুনে মনে হলো, এ কী কথা! উহুরুতে যাওয়ার জন্যই তো এত দিনের পরিকল্পনা, এত আয়োজন—সেই ছয় হাজার মিটার (যদিও প্রকৃতপক্ষে একশ মিটার কম) ছুঁয়ে দেখার জন্যই তো এত পথ। আর গিলমান্স থেকে উহুরুর উচ্চতা বেশি হলেও পথটি তুলনামূলক সহজ। তাই ক্লান্ত শরীরকে জোর করে টেনে নিয়ে বললাম, চলেন ভাই! আবার এগিয়ে চললাম, ধীরে ধীরে স্টেলা পয়েন্টও পার হলাম। দেখলাম অন্য রুট দিয়ে আসা বেশ কিছু বিদেশি দল আমাদের আগেই সেখানে পৌঁছে গেছে। কিলিমাঞ্জারোর চূড়ার প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছিল যেন মঙ্গলগ্রহে চলে এসেছি—অবাক হয়ে হিমবাহগুলো দেখছিলাম। এরপর সকাল আটটা-নয়টার দিকে আমরা ছয়জন পৌঁছে গেলাম উহুরু পিকে—আফ্রিকার সর্বোচ্চ চূড়ায়। চারদিকে ধূসর ও বরফে ঢাকা আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ, আমরা চূড়ায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয়ের সাক্ষী হলাম। লরেন হাসতে হাসতে পিঠ চাপড়ে দিচ্ছিলেন, আর আমি বুক ভরে শুধু নিঃশ্বাস নিচ্ছিলাম। এরপর ধীরে ধীরে সবাই ছবি তুলতে শুরু করলাম—গ্রুপ ছবি, পতাকা ও ব্যানার নিয়ে ছবি। এর মধ্যে অভিজিৎ দা লুঙ্গি পরে এবং রাশেদ ভাই ও ফৌজিয়া আপু শাড়ি-লুঙ্গি পরে ছবিও তুলে ফেললেন। এখন আফসোস হয়, কেন তখন দাদার লুঙ্গি পরে একটা ছবি তুললাম না—তবে তখনকার অবস্থা ছিল প্রায় বিধ্বস্ত।
ফেরার পথটাও ছিল সমান কঠিন—একেবারে খাড়া ঢাল আর পাথর-বালিতে ভরা, দুই-তিনবার পিছলে পড়েও গেলাম। তখন লক্ষ্য একটাই—হাটে পৌঁছে ঘুমাতে হবে, নাহলে আর সম্ভব নয়। নামার পথে দলের বাকি কয়েকজনের সাথেও দেখা হলো, যাঁরা গিলমান্স পয়েন্ট থেকে সামিট করে নেমে যাচ্ছিলেন। সবাইকে পেছনে ফেলে ধুলাবালি মেখে দুপুরের দিকে নেমে এলাম। এসে জুতা খুলে চোখে-মুখে গরম পানির ছিটা দিয়ে শুয়ে পড়লাম। সবাই দুপুরের খাবার খেয়ে নিতে বললেও, মস্তিষ্ক সেটা বোঝার আগেই আমি ঘুমে অচেতন হয়ে গেলাম। প্রায় এক ঘণ্টা ঘুমিয়ে আবার প্রস্তুত হয়ে বের হলাম, কারণ হোরোম্বো হাটে পৌঁছাতে আরও প্রায় চার ঘণ্টা হাঁটতে হবে। তখন ক্ষুধা অনুভব করলাম। মোশাররফ ভাই দুটি প্রোটিন বার দিয়ে বললেন সাথে রাখতে—একটা নিজে রেখে অন্যটি তৌহিদ ভাইয়ের হাতে দিয়ে তাঁকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। পথে আমাদের মধ্যে যে আলোচনা হলো, তা নিয়ে তৌহিদ ভাই হয়তো আরেকটি টেডএক্স বক্তৃতাও দিতে পারবেন! চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে আমরা দুই উত্তরবঙ্গের সন্তান ভাবছিলাম—কোথায় রাজশাহী, কোথায় রংপুর, আর কোথায় আমরা এসে দাঁড়িয়েছি! সন্ধ্যা নাগাদ পৌঁছালাম হোরোম্বো হাটে—প্রায় সতেরো-আঠারো ঘণ্টার দীর্ঘ ট্রেকিংয়ের সেদিনকার সমাপ্তি। প্রায় বিশ ঘণ্টা পর খেতে বসলাম, কারণ আগের সন্ধ্যায় রাতের খাবারের পর তেমন কিছুই খাওয়া হয়নি। হোরোম্বোতে পৌঁছানোর পর সবার আগে অভিনন্দন জানালেন শানু আপা, এরপর বন্ধু লিপি, এরপর নৈশভোজে উপস্থিত বাকিরাও। আমি অস্ফুটস্বরে কিছু একটা বলে চলে এলাম, কারণ তখনও ভালোভাবে কিছু ভাবার মতো অবস্থায় ছিলাম না। এরপর ধীরে ধীরে উপলব্ধি হলো, সত্যিই কিছু একটা অর্জন করেছি।
পরদিন দ্রুত প্রস্তুত হয়ে ভাই-ব্রাদারদের সঙ্গে ছয় ঘণ্টায় উনিশ কিলোমিটার পথ নেমে এলাম কিলিমাঞ্জারো গেটে। রেইনফরেস্টের সেই ট্রেইল, আমাদের গল্পগুজব আর অসাধারণ আবহাওয়া আজীবন মনে থাকবে। আমি, অভিজিৎ দা আর উইলিয়াম ভাই কাছাকাছি বয়সের এবং একই স্বভাবের হওয়ায় ভ্রমণের অনেক আগে থেকেই আমাদের মধ্যে একটি বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত আমরা তিনজনই সফল হয়ে একসাথে ফিরে আসতে পেরে বেশ আনন্দিত হয়েছিলাম, আনন্দে কিছু ছবিও তুলে ফেললাম। দুপুরের খাবার সেরে গাইডদের সাথে নিয়ে হোটেলের দিকে রওনা দিলাম। গাড়িতে গাইড গান গেয়ে নেচে উদযাপন করছিলেন। হঠাৎ অভিজিৎ দা পেছন থেকে চিৎকার করে বললেন, ওই দেখো, কিলি পিক দেখা যাচ্ছে! নিচ থেকে তাকিয়ে দেখলাম কিলিমাঞ্জারো মেঘের ফাঁক দিয়ে সগর্বে উঁকি দিচ্ছে। বিশ্বাস হচ্ছিল না যে কিছু ঘণ্টা আগেও আমরা সেই চূড়ায় ছিলাম। তখন প্রথমবার মনে হলো, জীবনে সত্যিই একটা কিছু অর্জন করা গেছে—দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন অবশেষে পূর্ণ হলো। হোটেলে ফিরে এলে দলের বাকিরা আমাদের প্রচুর প্রশংসা ও অভিনন্দন জানালেন। পাঁচ দিনের ধুলাময়লা গায়ে থাকা অবস্থাতেই দ্বৈপায়ন দাদা জড়িয়ে ধরলেন। আমি বললাম, ভাই গায়ে ধুলা! তিনি বললেন, আরে রাখো, ভাইয়ের গায়ে আবার ধুলা কীসের! হোটেলে সিফাত আপু, নওরিন আপু, সালাহউদ্দিন ভাই, নাজমা আপু সবাই আমাদের প্রশংসা করলেন। সবাই মিলে ছবি তুললাম, গাইডরা বিদায় নিলেন। এরপর রাতে উপস্থিত সবার করতালির মধ্যে পেলাম উহুরু জয়ের সার্টিফিকেট।
পরের কয়েকদিন যেন একধরনের সেলিব্রিটি অবস্থায় কাটল—যেখানেই যাই, বন্ধুবান্ধব কিলির সামিটের গল্প শুনতে চাইতেন, এমনকি হোটেলের কর্মী ও স্থানীয় ট্যাক্সিচালকরাও বেশ যত্ন করতেন। এই অনুভূতি প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন। দলের প্রত্যেকের সহায়তা ছাড়া এই যাত্রা সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না। এরপর কোথায় যাব, কবে যাব—তা এখনো জানি না, তবে পর্বতে আবার ফিরে যাব, ইনশাআল্লাহ, তা নিশ্চিত।
পড়ুন তকি তাহমিদ তানজিলের আরো লেখা
ঘুরুঞ্চি ম্যাগাজিনের সকল কর্মকান্ড নট ফর প্রফিট, স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে সকল কাজ পরিচালিত হচ্ছে।
অত্যন্ত ভরাক্রান্ত মনে জানাতে হচ্ছে যে আমাদের সম্মানিত লেখকদের জন্য কোনো তহবিল এই মুহূর্তে আমাদের কাছে নেই। অদূর ভবিষ্যতে তহবিল গঠন করতে পারা গেল এই অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে।
বর্তমানে আমাদের কাজ শুধুমাত্র স্বেচ্ছাসেবক এবং স্ব-অর্থায়নের উপর নির্ভর করে। আপনারা ঘুরুঞ্চিতে বিজ্ঞাপন দিয়ে, অনুদান দিয়ে, স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে সাহায্য করতে পারেন।
ঘুরুঞ্চির ভ্রমণ ছবি ব্লগের ছবি থেকে আপনার পছন্দসই ছবি পেপার প্রিন্ট, ফাইন আর্ট প্রিন্ট, ওয়াল আর্ট এবং ডেস্ক আর্ট হিসাবে কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। আপনারা ছবি কেনাকাটা করলে আমরা অল্প পরিমাণ কমিশন পাব, যা ঘুরুঞ্চির ক্রমবিকাশ এবং সম্প্রসারে ব্যাবস্থার হবে, যা ঘুরুঞ্চির ক্রমবিকাশ এবং সম্প্রসারে ব্যবহার হবে।
আমরা আপনার সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ।
